ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন পণ্যে শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়াতে চায় বিএসইসি

২০২৬ অক্টোবর ০৮ ২০:১৬:২১
নতুন পণ্যে শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়াতে চায় বিএসইসি

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে নতুন উদ্যোগে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বড় কোম্পানিকে বাজারে আনা, ইটিএফ ও আরইআইটি চালু এবং করপোরেট বন্ডের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

মাসুদ খান বলেন, শেয়ারবাজারের বৈচিত্র্য বাড়াতে নতুন পণ্য আনার কাজ গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ইটিএফ ও আরইআইটির মতো পণ্য রয়েছে। একই সঙ্গে বাজারের গভীরতা বাড়াতে করপোরেট বন্ডের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের আকার বাড়াতে দেশীয় বড় কোম্পানির পাশাপাশি বহুজাতিক ও বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোকে আইপিও এবং সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাইব্রিড পদ্ধতিতেও কোম্পানি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে নতুন পণ্য ও কোম্পানি আনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসির প্রধান দায়িত্ব হলো ন্যায্য লেনদেন নিশ্চিত করা, কারসাজি ঠেকানো এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া।

মাসুদ খান বলেন, দেশের শেয়ারবাজারে প্রায় ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী খুচরা বা ব্যক্তিগত। ফলে তাদের সুরক্ষা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শেয়ারের যথাযথ মূল্যায়ন ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশের পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই।

তিনি জানান, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা উন্নয়ন, ডিরেগুলেশন ও সেলফ রেগুলেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মাজুমদার বলেন, শেয়ারবাজারে গভর্ন্যান্স ও সিস্টেমগত সমস্যার কারণে সক্রিয় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমেছে। এই সংকট কাটাতে পণ্যের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, বন্ড, টি-বিল ও ফান্ড থাকলেও বিভিন্ন কারণে এগুলো যথেষ্ট ট্রেডেবল হয়ে ওঠেনি। ফলে দেশি-বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুন পণ্য প্রয়োজন।

সিএসই চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীর স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে ইকুইটির পাশাপাশি ফিক্সড ইনকামসহ বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। করপোরেট বন্ডের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। আরইআইটি চালু হলে বাজারে নতুন অর্থ আসবে।

তিনি বলেন, পেনশন ফান্ড, বিমা ফান্ড ও মিউচুয়াল ফান্ড কার্যকর হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়বে। এতে বাজারের গভীরতা ও স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসইর জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের মোহাম্মদ মর্তুজা আলম। প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন এম সাইফুর রহমান মাজুমদার। আলোচনায় অংশ নেন বি রিচ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. শামসুল ইসলাম, এফসিএ; লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ পিএলসির সিইও ও পরিচালক খন্দকার সাফফাত রেজা এবং সিএসইর চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মাদ মাহাদি হাসান।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন