ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

তিন বিনিয়োগকারীকে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা জরিমানা

২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১০:৪৩:২১
তিন বিনিয়োগকারীকে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা জরিমানা

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার নিয়ে কারসাজির অভিযোগে তিন বিনিয়োগকারীকে মোট ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একাধিক বিও হিসাব ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচা, বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে শেয়ার কেনা এবং কৃত্রিমভাবে লেনদেনের সক্রিয়তা তৈরির অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জরিমানার আদেশ অনুযায়ী, মো. আজাদ হোসেন পাটোয়ারীকে ২ কোটি টাকা, মো. আক্তার হোসেনকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং মো. নাসির উদ্দিন আকনকে ১ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসইসির তদন্তে এসব লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারের দর ও লেনদেনকে প্রভাবিত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

একাধিক হিসাবে শেয়ার হাতবদল

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাসির উদ্দিন আকন বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজে নিজের নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৯টি বিও হিসাব পরিচালনা করতেন। ২০২৫ সালের ৫ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি নিজের বিভিন্ন বিও হিসাবের মধ্যে ৯৪ হাজার ৩৫৯টি শেয়ার লেনদেন করেন। এসব লেনদেনের আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে শেয়ার কেনার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

বিএসইসির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ পর্যন্ত খান ব্রাদার্সের শেয়ার লেনদেন করে নাসির উদ্দিন আকন ৪ কোটি ২২ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৩ টাকা বাস্তবায়িত মুনাফা করেন। একই বছরের ২০ মার্চ পর্যন্ত তাঁর হাতে থাকা অবিক্রীত শেয়ারে অবাস্তবায়িত মুনাফা ছিল প্রায় ১৫ কোটি ৭২ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

আজাদ হোসেন পাটোয়ারীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সাতটি বিও হিসাবের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি নিজের বিভিন্ন বিও হিসাবের মধ্যে আটটি লেনদেনে ৫ হাজার ৮৫২টি শেয়ার কেনাবেচা করেন। এসব লেনদেনের মূল্য ছিল ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯৩৬ টাকা।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত খান ব্রাদার্সের শেয়ার লেনদেন করে আজাদ হোসেন পাটোয়ারী ৮ কোটি ২১ লাখ ৩ হাজার ৩১৩ টাকা বাস্তবায়িত মুনাফা করেন। ওই বছরের ২৪ মার্চ পর্যন্ত তাঁর পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ারে অবাস্তবায়িত মুনাফা ছিল ১৩ কোটি ৬৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৬৬ টাকা।

ছয়টি বিও হিসাব আক্তার হোসেনের

তৃতীয় বিনিয়োগকারী আক্তার হোসেনের নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজে ছয়টি বিও হিসাব ছিল। তদন্তে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি নিজের বিভিন্ন বিও হিসাবের মধ্যে ৫৪ হাজার ২৭১টি শেয়ার লেনদেন করেন। এসব লেনদেনের আর্থিক মূল্য ছিল ৯১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৪১ টাকা।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে শেয়ার কেনা এবং ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত ধারাবাহিক লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সক্রিয়তা তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

বিনিয়োগকারীদের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি কমিশন

শুনানিতে তিন বিনিয়োগকারীই নিজেদের সাধারণ বিনিয়োগকারী হিসেবে দাবি করেন। আক্তার হোসেনের পক্ষ থেকে লোকসানের কথা তুলে ধরে বলা হয়, তিনি কোনো সিন্ডিকেট বা কারসাজির সঙ্গে জড়িত নন। তবে তাঁদের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি বিএসইসি।

কমিশন জানিয়েছে, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৭(ই)(২), ১৭(ই)(৩) ও ১৭(ই)(৫) ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে। আইনের ২২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তিন বিনিয়োগকারীকে জরিমানা করা হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা না দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন