ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১

বিএসইসি নিশ্চুপ, ডিএসই আগে থেকেই নিস্ক্রিয়, সিএসই থেকেও নেই

২০২৪ জুন ১০ ০৬:২৪:৫২
বিএসইসি নিশ্চুপ, ডিএসই আগে থেকেই নিস্ক্রিয়, সিএসই থেকেও নেই

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : গত কয়েক মাস ধরে শেয়ারবাজারে চলছে ভয়াবহ পতন। এতে করে নিয়মিত কমছে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ। যা গত ২ মাসে লাখ কোটি টাকার বেশি কমেছে। এই চরম মন্দায় নিয়মিত বাজার ছাড়ছেন হাজারো বিনিয়োগকারী। তারপরেও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কোন ভূমিকা নেই এ নিয়ে।

আগের ধারাবাহিকতায় রবিবার (০৯ জুন) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৫.৭৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫১৭১ পয়েন্টে। এমন পতনে ডিএসইএক্স সূচকটি ২০২১ সালের ৫ এপ্রিলের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থায় নেমে গেছে। অর্থাৎ সূচকটি বিগত ৩ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে সর্বশেষ ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল সূচকটি রবিবারের তুলনায় কম ছিল। ওইদিন ডিএসইএক্স ছিল ৫০৮৯ পয়েন্টে।

ধারাবাহিক এই পতনে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও বা বিনিয়োগমূল্য কমে গেছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। এ বছরের ১৭ জানুয়ারি ডিএসইর সব সিকিউরিটিজের দাম ছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। যা কমে ৯ জুন নেমে এসেছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৯ কোটি টাকায়। অর্থাৎ চলতি বছরে বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। তবে প্রকৃতপক্ষে এর পরিমাণ আরও বেশি। কারন এরইমধ্যে কিছু ট্রেজারি বন্ড ও কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। যেগুলো তালিকাভুক্তিতে স্বাভাবিকভাবেই বাজার মূলধনে কয়েক হাজার কোটি টাকা যোগ হয়েছে।

শেয়ারবাজারের এমন পতনে দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা। যারা চোখেমূখে অন্ধকার দেখছেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজার ছাড়তে শুরু করেছেন। নিয়মিত সিকিউরিটিজ শুন্য হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের হাজার হাজার পোর্টফোলিও।

তবে বিনিয়োগকারীদের এমন রক্তক্ষরণেও কার্যত নিশ্চুপ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। টানা পতনে বিনিয়োগকারীরা নিঃশ্ব হয়ে মরার অবস্থা হলেও কোন কার্যকর ভূমিকা নেই বিএসইসির। যা দু-একটি ভূমিকা রাখতে চায়, সেটাও কাজে আসছে না।

অথচ অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিএসইসির এই কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পরে অসংখ্য কাজ করতে দেখা গেছে। ডিএসইর সূচক ১০ হাজারে ও লেনদেন কিভাবে ৫ হাজার কোটি টাকা করা যায়, তা নিয়ে সক্রিয় ছিল। এমনকি বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আনার জন্য অনেক দেশে রোড শো করেছে।

তবে চলমান বাজারের মন্দায় অনেকটা ব্যর্থ অতিতের সেই প্রাণাঞ্চল শিবলী কমিশন। এখন সূচক ও লেনদেন দেখা তাদের কাজ না বলে দায়িত্ব থেকে পালিয়ে বা দূরে সরে যেতে চায় এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কর্তারা।

তবে প্রকৃতপক্ষে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে যাদের ভূমিকা রাখা দরকার এবং যাদের দায়িত্ব, তারা অনেক আগে থেকেই নিস্ক্রিয়। শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেনের উন্নতিতে আয় বাড়ে স্টক এক্সচেঞ্জের। এটা বাড়ানো তাদেরই দায়িত্ব। কিন্তু তারা অনেকটা বিএসইসির উপরে দায়িত্ব দিয়ে বসে বসে আয় করার মতো মানসিক অবস্থায় চলে গেছে। সেটাও যদি না হয়, তাহলে ব্রোকারেজ হাউজ বা সদস্যদের দেওয়া হাজার কোটি টাকার এফডিআর তো আছেই, সেখান থেকে সুদজনিত যা আসবে, তা দিয়েই চালিয়ে নেবে।

কিন্তু ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের আগে এমন ছিল না দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। শেয়ারবাজারের যেকোন ক্রান্তিকালে রকিবুর রহমানেরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করতেন সমাধানে করণীয় নিয়ে। কিভাবে বাজারকে সমস্যা থেকে উত্তোরন করে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবতেন।

কিন্তু ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে ডিএসই পর্ষদে অধিকাংশই এখন স্বতন্ত্র পরিচালক। যাদের শেয়ারবাজার নিয়ে মাথাব্যাথা নেই। তারাতো এই বাজারে সরাসরি জড়িত না। ডিএসইর মতো একটি প্রতিষ্ঠানে আসায় তাদের মর্যাদা বেড়েছে। এছাড়া বোর্ড মিটিং ফিসহ বিভিন্নভাবে আয় হচ্ছে। এজন্য অনেকে তদবির করে নিয়োগ পেয়েছেন। এই বাজারে বিনিয়োগকারীরা নিঃশ্ব হয়ে গেলেও তাদের কিছুই যায় আসে না।

ডিএসই এখন নিস্ক্রিয় হলেও দেশের ২য় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) শুরু থেকেই না থাকার মতো। শেয়ারবাজারের সমস্যা নিয়ে এই স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষকে কখনো মাথায় চাঁপ নিতে হয়নি। বিএসইসি ও ডিএসইর উপরই সব দায়িত্ব, এমন মনোভাব নিয়েই শুরু থেকে পথ পাড়ি দিচ্ছে সিএসইর কর্তারা। যে কারনে এ বাজারটি দীর্ঘ পথচলায়ও নিজস্ব আলোয় জলতে পারেনি। বেরিয়ে আসতে পারেনি পরনির্ভরশীলতার মানসিকতা থেকে সিএসইর কর্তা।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে