ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

শেয়ারবাজার উন্নয়নে যা করা প্রয়োজন, তার সবকিছুই করবো- আনিসুজ্জামান

২০২৫ মে ১৮ ১৯:৪৭:০৯
শেয়ারবাজার উন্নয়নে যা করা প্রয়োজন, তার সবকিছুই করবো- আনিসুজ্জামান

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে বিদ্যমান যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আওতার মধ্যে আছে, সেগুলো তাদেরকেই সমাধান করতে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায়) ও পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। আর যে বিষয়গুলো তাদের আওতার বাইরে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলেছেন তিনি। সেক্ষেত্রে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। এমনকি তিনি সবার সব কথা শুনবেন এবং শেয়ারবাজার উন্নয়নে যা করা প্রয়োজন, তার সবকিছুই করবেন বলে জানিয়েছেন।

রবিবার (১৮ মে) পুঁজিবাজার উন্নয়নের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী নিকুঞ্জে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পরিদর্শনে আসেন৷

এসময় তাঁর সাথে ছিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মো: মহসিন চৌধুরী, মো: আলি আকবর, পুঁজিবাজার সংস্কার বিষয়ক টাস্কফোর্স-এর সদস্যবৃন্দ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্টেকহোল্ডার- ডিবিএ, সিডিবিএল, সিসিবিএল-এর প্রতিনিধিবৃন্দ।

ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সরকার পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সংস্কার নিশ্চিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো আন্তরিকতার সাথে দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করছে৷ প্রধান উপদেষ্টা দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার তথা পরিবর্তনের জন্য কাজ করছেন৷ দেশের অর্থনীতি এখন ঘুড়ে দাঁড়াতে শুরু করেছে। বিদেশি ঋণ পরিশোধসহ অর্থনীতিতে অনেক ইতিবাচক ঘটনা ঘটছে। এসবের প্রভাব শিগগিরই পুঁজিবাজারে পড়বে।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হতে যাচ্ছে৷ উন্নয়নশীল দেশের উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিদেশীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারের শক্ত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে৷ পুঁজিবাজারকে শক্ত কাঠামোয় গড়ে তুলতে পারলে শিল্পোন্নয়নে পুঁজি সংগ্রহের পথ সহজ হবে৷

তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের অবকাঠামো, মানব সম্পদ ও আর্থিক মূলধন সবই বিদ্যমান। শুধু দেশ প্রেমের মানসিকতায় এগুলোকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইনস এর উদাহরণ দেন।

তিনি আরও বলেন, ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির জন্য বিএসইসি চেষ্ঠা করছে৷ পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের সুপারিশের আলোকে খুব দ্রুতই পাবলিক ইস্যু রুলসের সংস্কার করা হবে, যা ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে৷ এদিন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা বাজার উন্নয়নে ক্যাপিটাল মার্কেট স্টাকচার, এসএমই মার্কেট, এটিবি মার্কেট, বিও একাউন্ট বৃদ্ধি, মার্কেটে পার্টিসিপেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি, ব্যাংকের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুঁজিবাজারের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো, ক্ষুদ্র জনগোষ্টিকে পুঁজিবাজারে সম্পৃক্ত করা, সিসিবিএল-এর বাস্তবায়ন, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয় বৃদ্ধি, দীর্ঘদিনের পুরাতন আইনগুলো যুগোপযোগী করা, ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন রিভিউ করা, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের উন্নতি, তালিকাভুক্তি কোম্পানির কর হার হ্রাস, নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির ট্যাক্স সুবিধা, সরকারি শেয়ার পুঁজিবাজার আনা, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঋণ সহায়তা, ব্রোকার কমিশন, ফিনান্সিয়াল লিটারেসি, মার্কেট পলিসি, নেগেটিভ ইক্যুইটি এবং সিসি একাউন্টসহ অন্যান্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

উল্লেখ্য যে, দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে অধিকতর শক্তিশালীকরণ এবং পুঁজিবাজার উন্নয়নে গত ১৭ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায়) ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীকে সভাপতি করে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. সাদেকুল ইসলাম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বীমা ও পুঁজিবাজার অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ সাঈদ কুতুব ও কমিটির সদস্য সচিব বিএসইসি'র কমিশনার ফারজানা লালারুখ।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন