ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

আইপিওতে ভুয়া তথ্যের জের

সিএপিএম অ্যাডভাইজরির নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়া, শেয়ার স্থানান্তরের নির্দেশ

২০২৬ জুন ২৫ ০৮:২৫:৫৬
সিএপিএম অ্যাডভাইজরির নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়া, শেয়ার স্থানান্তরের নির্দেশ

আইপিও প্রসপেক্টাসে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে শেয়ারবাজারের সদস্যভুক্ত মার্চেন্ট ব্যাংক সিএপিএম অ্যাডভাইজরি–এর নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে থাকা শেয়ার অন্য হিসাবে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)-কে।

বিএসইসি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত কোম্পানি রিং সাইন টেক্সটাইল–এর প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রস্তুতের সময় সিএপিএম অ্যাডভাইজরি ভুয়া তথ্য সরবরাহ করেছে—এমন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে একই অভিযোগে গত বছরের ১০ জুলাই সিএপিএম অ্যাডভাইজরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানিয়া শারমিনকে শেয়ারবাজারে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল কমিশন।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, তদন্তে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা না থাকায় সিএপিএম অ্যাডভাইজরির মার্চেন্ট ব্যাংকার নিবন্ধন সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, সিএপিএম অ্যাডভাইজরি ও রিং সাইন টেক্সটাইলের যৌথভাবে প্রস্তুত করা আইপিও প্রসপেক্টাসে ভুয়া তথ্য দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত কমিটি ও বিশেষ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এ বিষয়ে একাধিক শুনানি শেষে গত ৫ মে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় নিবন্ধন সনদ বাতিলের কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ১৬৯ জন সক্রিয় গ্রাহকের বিও হিসাবে থাকা সিকিউরিটিজ ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট লিংক বিও হিসাবে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় গত ৫ এপ্রিল সিডিবিএলের কাছ থেকে সক্রিয় গ্রাহকদের তালিকা সংগ্রহ করে কমিশন। পুরো প্রক্রিয়ায় সার্বিক সহযোগিতা করতে সিএপিএম অ্যাডভাইজরিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসি মনে করে, প্রসপেক্টাসে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার এই ঘটনা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) বিধিমালা, ২০১৫ এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ২২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সিডিবিএলকে পাঠানো চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন, এনফোর্সমেন্ট বিভাগের শুনানি, কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব এবং বিভিন্ন সভার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করেই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, শুধু সনদ বাতিল করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম পুরোপুরি রোধ করতে হলে লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া প্রয়োজন।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন