ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

মার্জিন ঋণে নতুন সীমা নির্ধারণ

২০২৬ আগস্ট ১৭ ২০:৪৩:০৪
মার্জিন ঋণে নতুন সীমা নির্ধারণ

শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশোধিত মার্জিন বিধিমালায় জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন ঋণের যোগ্যতা নির্ধারণে প্রাইস টু বুক ভ্যালু (পিবি) সর্বোচ্চ ৩ এবং অন্যান্য খাতের শেয়ারের ক্ষেত্রে প্রাইস আর্নিং (পিই) সর্বোচ্চ ৪০ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব যোগ্য সিকিউরিটিজে মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ করা হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত ১৩ আগস্ট মার্জিন বিধিমালার সংশোধিত চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন করে গেজেট প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই গেজেট প্রকাশ হতে পারে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, জীবন বীমা কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য খাতের কোনো শেয়ারের পিই ৪০-এর বেশি হলে ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একইভাবে কোনো কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ঋণাত্মক হলেও সেই শেয়ার মার্জিন সুবিধার অযোগ্য হবে। পিই নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বশেষ ট্রেডিং দিনের সমাপনী মূল্যকে সর্বশেষ চার প্রান্তিকের ইপিএসের যোগফল দিয়ে ভাগ করে ট্রেইলিং পিই হিসাব করা হবে।

জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিইর পরিবর্তে পিবি অনুপাত বিবেচনা করা হবে। কোনো কোম্পানির পিবি ৩-এর বেশি হলে ওই শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি কোনো জীবন বীমা কোম্পানির নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ঋণাত্মক হলেও শেয়ারটি মার্জিন সুবিধার বাইরে থাকবে। এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ ট্রেডিং দিনের সমাপনী মূল্যকে সর্বশেষ নিরীক্ষিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দিয়ে ভাগ করে পিবি নির্ধারণ করা হবে।

সংশোধিত বিধিমালায় সব মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটিজের জন্য ঋণের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো বিনিয়োগকারী নিজের ইকুইটির সমপরিমাণ মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন।

তবে মার্জিন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। মার্জিনের অযোগ্য কোনো সিকিউরিটি নিজের নগদ অর্থে কেনা হলেও সেটির মূল্যকে পরবর্তী সময়ে মার্জিন ঋণের জন্য ইকুইটি হিসেবে গণনা করা যাবে না।

মার্জিন কল ও শেয়ার বিক্রির নিয়মে পরিবর্তন

নতুন বিধিমালায় বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্জিন কল ও শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে। পোর্টফোলিওর ইকুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে মার্জিন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগকারীকে মার্জিন কল বা আগাম নোটিস দিতে হবে।

এরপর ইকুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে আগাম নোটিস ছাড়াই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান শেয়ার বিক্রি করতে পারবে। তবে এ বিষয়ে লিখিতভাবে অথবা গ্রাহকের ই-মেইল ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে বার্তার মাধ্যমে জানাতে হবে। প্রয়োজন হলে ফোন কলের মাধ্যমেও গ্রাহককে অবহিত করা যাবে।

যেসব শেয়ারে মার্জিন ঋণ মিলবে না

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, ‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে এসএমই বোর্ড, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) ও ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজও এই সুবিধার বাইরে থাকবে।

শুধু স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির যোগ্য শেয়ারে মার্জিন সুবিধা পাওয়া যাবে।

একক শেয়ারে অর্থায়নের সীমা

মার্জিন অর্থায়নকারীদের ঝুঁকি কমাতে কোনো একক সিকিউরিটিতে অর্থায়নের সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের ২০ শতাংশের বেশি কোনো একটি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ বা অর্থায়ন করতে পারবে না।

এ ছাড়া মার্জিন চুক্তির মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো পক্ষ চুক্তি বাতিল না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। মার্জিনে নেওয়া অর্থ শুধু মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটি কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

তবে চুক্তিতে নির্ধারিত গ্রাহকের ইকুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের ন্যূনতম অনুপাত বজায় থাকলে গ্রাহক তার মার্জিন হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

নতুন বিধিমালায় একটি বিষয়ও স্পষ্ট করা হয়েছে—কোনো শেয়ার মার্জিনযোগ্য না হলেও বিনিয়োগকারী নিজের নগদ অর্থে সেটি কিনতে পারবেন। তবে পরবর্তী সময়ে ওই শেয়ারের মূল্যকে ইকুইটি হিসেবে দেখিয়ে অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ নেওয়া যাবে না।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন