ঢাকা, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

রিচার’ দিয়ে হলিউডে নতুন করে আলোচনায় আগনেজ মো

২০২৬ আগস্ট ২৯ ১০:৫৩:৫১
রিচার’ দিয়ে হলিউডে নতুন করে আলোচনায় আগনেজ মো

বিনোদন ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার বিনোদন অঙ্গনে তিন দশকের বেশি সময় ধরে পরিচিত মুখ আগনেজ মো। গান, অভিনয়, নাচ ও টেলিভিশন উপস্থাপনা—বিনোদনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই রয়েছে তাঁর বিচরণ। তবে এবার নিজ দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই তারকা। কারণ, জনপ্রিয় অ্যাকশন সিরিজ ‘রিচার’-এর চতুর্থ মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি।

প্রাইম ভিডিওর এই সিরিজের নতুন মৌসুমে আগনেজকে দেখা যাচ্ছে লিলা হথ চরিত্রে। ১২ আগস্ট থেকে প্রচার শুরু হওয়া মৌসুমটি ঘিরে আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমে এরই মধ্যে আগনেজের অভিনয় নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় অবশ্য আগনেজ মোকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মাত্র ছয় বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা এই তারকা সময়ের সঙ্গে অভিনেত্রী, গায়িকা, নৃত্যশিল্পী ও আন্তর্জাতিক পপ তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ছয় বছর বয়সে ক্যারিয়ার শুরু

১৯৮৬ সালের ১ জুলাই জাকার্তায় জন্ম অ্যাগনেস মনিকা মুলজোতোর। পরবর্তী সময়ে পেশাগতভাবে তিনি পরিচিতি পান আগনেজ মো নামে। মাত্র ছয় বছর বয়সেই বিনোদন অঙ্গনে তাঁর পথচলা শুরু হয়।

শিশুশিল্পী হিসেবে নব্বইয়ের দশকে তিনটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি শিশুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করতেন।

২০০১ সালে ইন্দোনেশীয় টেলিভিশন নাটক ‘পেরনিকাহান দিনি’ তাঁর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনে। সেখানে অল্প বয়সে গর্ভবতী হয়ে বিয়ের মুখোমুখি হওয়া এক কিশোরীর চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। নাটকটি তাঁকে কিশোর দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

পরবর্তী সময়ে ইন্দোনেশিয়ার বেশ কয়েকটি টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করেন আগনেজ। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তাইওয়ানের ‘দ্য হসপিটাল’ ও ‘রোমান্থ ইন দ্য হোয়াইট হাউস’-এর মতো প্রযোজনাতেও কাজ করেছেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও সাফল্য

কিশোর বয়সেই অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন আগনেজ। ২০০৩ সালে ‘অ্যান্ড দ্য স্টোরি গোস’ অ্যালবাম প্রকাশের মাধ্যমে শিশুশিল্পী থেকে প্রাপ্তবয়স্ক পপ তারকা হয়ে ওঠার পথ শুরু হয়।

এরপর ‘হোয়াড্ডাপ এ...?’ ও ‘সেক্রেডলি অ্যাগনেশিয়াস’ অ্যালবামের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ সংগীত তারকাদের একজন হয়ে ওঠেন তিনি।

একপর্যায়ে গানই তাঁর প্রধান পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়। তবে অভিনয় ও টেলিভিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ ধরে রাখেন। ‘ইন্দোনেশিয়ান আইডল’ ও ‘দ্য ভয়েস অব ইন্দোনেশিয়া’র বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে যাত্রা

ইন্দোনেশিয়ার বাজারে সফল হওয়ার পর আগনেজের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতাঙ্গন। ২০১৩ সালে প্রকাশ করেন ইংরেজি ভাষার অ্যালবাম ‘আগনেজ মো’। এরপর আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সঙ্গে কাজের সুযোগ তৈরি হয় তাঁর।

মার্কিন র‍্যাপার টি-আই ও প্রযোজক টিম্বাল্যান্ডের সঙ্গে ‘কোক বটল’ গানটি তাঁকে আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে পরিচিত করে। পরে ক্রিস ব্রাউনের সঙ্গে ‘ওভারডোজ’ গানেও কাজ করেন তিনি।

ফ্রেঞ্চ মন্টানা, স্টিভ আওকি ও জুসি জে-র মতো শিল্পীদের সঙ্গেও কাজ করেছেন আগনেজ। ২০১৯ সালে আইহার্ট রেডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে ‘সোশ্যাল স্টার’ স্বীকৃতি পান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা তিন কোটির বেশি।

১৫ বছর পর অভিনয়ে ফেরা

সংগীত ক্যারিয়ারে ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ সময় অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন আগনেজ। প্রায় ১৫ বছর পর ‘রিচার’-এর মাধ্যমে আবার অভিনয়ে ফিরেছেন তিনি।

তবে এই ফেরাকে সাধারণ কোনো অভিনয়ের কাজ হিসেবে দেখছেন না আগনেজ। তাঁর কাছে ‘রিচার’-এর চরিত্রটি পাওয়ার বিষয়টি ছিল নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অডিশন দেওয়ার সময় তাঁর ইচ্ছা ছিল না যে সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিতির কারণে তাঁকে চরিত্রটি দেওয়া হোক। বরং তিনি চেয়েছিলেন, নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতেই যেন কাজটি পান।

অডিশনের পর কলব্যাক ও কেমিস্ট্রি টেস্টের ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত লিলা হথ চরিত্রে নির্বাচিত হন তিনি।

‘রিচার’-এ আগনেজের চরিত্র

চতুর্থ মৌসুমে আগনেজ অভিনয় করছেন লিলা হথের চরিত্রে। গল্পে মা আমিশা হথকে সঙ্গে নিয়ে ফিলাডেলফিয়ায় আসে লিলা। সে জানায়, তার লিউকেমিয়া হয়েছে এবং সে তার বাবা কংগ্রেসম্যান জন স্যাম্পসনের সন্ধান করছে। কারণ, তাঁর কাছ থেকে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।

পরবর্তীতে লিলার ঘটনা জ্যাক রিচারের তদন্তের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। ফলে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে চরিত্রটি।

লিলার মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত ফরাসি গায়িকা আংগুন। অর্থাৎ একই মৌসুমে দুই আন্তর্জাতিক সংগীত তারকাকে অভিনয়ে দেখা যাচ্ছে।

আগনেজের কাছে লিলা আকর্ষণীয় হওয়ার অন্যতম কারণ চরিত্রটির জটিলতা। তাঁর ভাষায়, লিলার ভেতরে অনেক কিছু লুকিয়ে আছে। সে বুদ্ধিমান, দৃঢ় এবং আবেগের দিক থেকেও বহুস্তরীয়। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও চরিত্রটি একজন স্বাভাবিক মানুষের মতো আচরণ করে।

গান ও অভিনয়—দুটিই গল্প বলার মাধ্যম

আগনেজ মনে করেন, গান ও অভিনয়ের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য নেই। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে গীতিকার ও গল্প বলিয়েও হতে সাহায্য করেছে।

তাঁর মতে, অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষের আবেগ, মনস্তত্ত্ব ও চরিত্রকে গভীরভাবে বোঝার সুযোগ পাওয়া যায়। সংগীতেও একজন শিল্পীর কাজ শুধু গান পরিবেশন করা নয়; বরং শ্রোতাকে একটি অনুভূতির ভেতরে নিয়ে যাওয়া।

তাই দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আবেগের সত্যতা। দর্শক বা শ্রোতা সহজেই বুঝতে পারেন একজন শিল্পীর অনুভূতি কতটা আন্তরিক।

‘রিচার’ বদলে দিতে পারে আন্তর্জাতিক পরিচিতি

ইন্দোনেশিয়ায় আগনেজ মো দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় তারকা। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দর্শকের কাছে ‘রিচার’-এর লিলা হথ চরিত্রটি তাঁকে চেনার প্রথম সুযোগ হতে পারে।

প্রাইম ভিডিওর অন্যতম সফল সিরিজ ‘রিচার’। তৃতীয় মৌসুমের প্রথম ১৯ দিনে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি ৪৬ লাখ দর্শক সিরিজটি দেখেছিলেন। চতুর্থ মৌসুম প্রচারের আগেই পঞ্চম মৌসুমের অনুমোদনও দিয়েছে অ্যামাজন।

ফলে এমন একটি জনপ্রিয় সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় আগনেজের আন্তর্জাতিক অভিনয় ক্যারিয়ারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

‘রিচার’-এ অভিনয়ের পর আইএমডিবির ট্রেন্ডিং তারকাদের তালিকায় একসময় ষষ্ঠ অবস্থানেও উঠে এসেছিলেন তিনি। বিষয়টি তাঁর নিজের কাছেও ছিল বেশ বিস্ময়কর।

সামনে আরও আন্তর্জাতিক কাজ

‘রিচার’ দিয়েই আন্তর্জাতিক অভিনয়যাত্রা থামছে না আগনেজের। তাঁর আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রকল্প ‘গ্রোভ টেলস’ নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ এখন তাঁর সামনে আরও বিস্তৃত। এমনকি ভবিষ্যতে মার্ভেলের ‘এক্স–মেন’–এর জনপ্রিয় চরিত্র সাইলক চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ফ্যান-কাস্টিংয়ের জবাবে আগনেজ জানিয়েছিলেন, এই ইচ্ছাটি তিনি ‘বিশ্বের কাছে ছুড়ে দিচ্ছেন’। তবে এখন পর্যন্ত তাঁকে সাইলক চরিত্রে নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

পাঠকের মতামত:

বিনোদন এর সর্বশেষ খবর

বিনোদন - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন