ঢাকা, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

কাঁচা পাটে ০.৫% উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি ব্যবসায়ীদের

২০২৬ আগস্ট ৩১ ০৭:৪৮:৪৩
কাঁচা পাটে ০.৫% উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি ব্যবসায়ীদের

পাটশিল্পের প্রধান কাঁচামাল কাঁচা পাটের ওপর আরোপিত শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর (টিডিএস) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট কর পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো এবং উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যয় কমাতে বিভিন্ন কর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন পাটশিল্পের ব্যবসায়ীরা। বৈঠকে দেশের পাটশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং করব্যবস্থার কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় আসে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের পাটশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কাঁচা পাট কেনার সময় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর পরিশোধ করতে হওয়ায় মিলগুলোর নগদ অর্থপ্রবাহে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

জুট স্পিনিং মিলগুলোর প্রধান কাঁচামাল কাঁচা পাট। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকের কাছ থেকে হাটবাজারের মাধ্যমে মিলগুলো পাট সংগ্রহ করে। ফলে পাট কেনার সময় উৎসে কর আরোপের কারণে সরাসরি মিলগুলোর কার্যকরী মূলধনের ওপর চাপ পড়ে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে একই ধরনের উৎসে করের চাপ নেই। বিশেষ করে টেক্সটাইল খাত আমদানিনির্ভর কাঁচা তুলা ব্যবহার করলেও সেখানে তুলনামূলকভাবে কম করের চাপ রয়েছে। অথচ দেশের কৃষকদের উৎপাদিত কাঁচা পাটের ওপর উৎসে কর আরোপ করা হচ্ছে। এতে দেশীয় পাটশিল্প প্রতিযোগিতায় বৈষম্যের মুখে পড়ছে।

বৈঠকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত কয়েক বছরে পাটশিল্পে কাঁচা পাটের ওপর উৎসে করের হার বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর কার্যকর রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পাটশিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত কাঁচা পাটের ওপর এ কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করে শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা হোক।

এ ছাড়া পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট কর পরিশোধের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ অর্থপ্রবাহের চাপ কিছুটা কমবে এবং শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।

পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমানো ও রপ্তানি পণ্যের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে কর সুবিধা বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে দেশের পাটশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন