ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ চায় বিএসইসি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৫:১১:০৩
তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ চায় বিএসইসি

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে নিজস্ব শেয়ার কেনার (শেয়ার বাইব্যাক) সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানি আইন-১৯৯৪-এর খসড়া সংশোধনীতে এ সুযোগ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির একীভূতকরণ (মার্জার), ডিমার্জার ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিএসইসির মতামত নেওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর এফবিসিসিআই বোর্ড রুমে কোম্পানি আইন-১৯৯৪-এর খসড়া সংশোধনী নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিএসইসির পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সভাটির আয়োজন করে।

সভায় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, কোম্পানি আইনকে সময়োপযোগী করতে বিভিন্ন ধারায় সংশোধন প্রয়োজন। এর মধ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিজস্ব শেয়ার কেনার সুযোগ বা শেয়ার বাইব্যাকের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর কোম্পানি আইন সংশোধনের বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সেসবের কয়েকটি প্রতিফলিত হয়নি। এর মধ্যে কোম্পানির নিজস্ব শেয়ার কেনার সুযোগের বিষয়টিও রয়েছে।

বর্তমান কোম্পানি আইনের ৫৮ ধারায় কোম্পানির নিজের শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ ধারায় সংশোধন এনে অন্তত তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে নির্দিষ্ট শর্তে নিজস্ব শেয়ার কেনার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বিএসইসি। কীভাবে এ ব্যবস্থা করা যেতে পারে, সে বিষয়ে আগের প্রস্তাবে বিস্তারিত কাঠামোও দেওয়া হয়েছিল বলে সভায় জানানো হয়।

বিএসইসির এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মূলধন ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে কোম্পানির বাজারদর ও মৌলভিত্তির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হলে বা অতিরিক্ত নগদ অর্থ থাকলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিজস্ব শেয়ার কেনার সুযোগ কোম্পানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে বাজারে শেয়ারের সরবরাহ কমার কারণে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

মার্জার-ডিমার্জারে বিএসইসিকে যুক্ত করার দাবি

তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির একীভূতকরণ, অধিগ্রহণ, ডিমার্জার ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও বিএসইসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, কোম্পানি আইনের ২২৮ ও ২২৯ ধারায় এসব বিষয়ে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে একীভূতকরণ বা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকার বিষয়টি প্রস্তাবিত সংশোধনীতে রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে একীভূত হলে বা এর বিপরীত কোনো ঘটনা ঘটলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সরাসরি জড়িত থাকে। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিএসইসির মতামত থাকা প্রয়োজন।

ভারতের আইনের আদলে এ ধরনের ঘটনায় সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পক্ষ করার প্রস্তাবও দেন তিনি।

বিএসইসির পক্ষ থেকে বলা হয়, মার্জার, ডিমার্জার বা পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট সিদ্ধান্তে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা জরুরি। এ কারণে এসব প্রক্রিয়ায় শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার আনুষ্ঠানিক ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

প্রসপেক্টাসে আর্থিক বিবরণীর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব

শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তি, রাইট শেয়ার বা বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজ ইস্যুর ক্ষেত্রেও কোম্পানি আইনের সংশোধন চেয়েছে বিএসইসি।

তফসিল-৩-এ প্রসপেক্টাসে আর্থিক বিবরণী ব্যবহারের সময়সীমা ১৮০ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৭০ দিন করার প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, বর্তমান আইনে কোনো আর্থিক বিবরণী ১৮০ দিনের বেশি পুরোনো হলে তা প্রসপেক্টাসে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। কিন্তু বাস্তবে একটি কোম্পানির আইপিও, রাইট শেয়ার বা বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়ায় নিরীক্ষা, আবেদন ও অনুমোদনে দীর্ঘ সময় লাগে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষা করতেই প্রায় ১২০ দিন সময় লেগে যায়। এরপর আবেদন, অনুমোদন ও নিবন্ধকের কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করতে ১৮০ দিনের সময়সীমা অতিক্রম করে যেতে পারে।

এ কারণে সময়সীমা বাড়িয়ে ২৭০ দিন করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বার্ষিক প্রতিবেদনেও পরিবর্তন চায় বিএসইসি

তালিকাভুক্ত কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন ব্যবস্থাকেও আধুনিক করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএসইসি। কোম্পানি আইনে ‘ব্যালান্স শিট’-এর পরিবর্তে ‘বার্ষিক আর্থিক বিবরণী’ এবং ‘বোর্ড রিপোর্ট’-এর পরিবর্তে ‘অ্যানুয়াল রিপোর্ট’ ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া অ্যানুয়াল রিপোর্ট ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকাশ ও সরবরাহের সুযোগ রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির এসব প্রস্তাব মূলত তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কাঠামো, মূলধন ব্যবস্থাপনা, করপোরেট পুনর্গঠন এবং শেয়ারবাজারে নতুন সিকিউরিটিজ আনার প্রক্রিয়াকে আরও বাস্তবসম্মত করার সঙ্গে সম্পর্কিত।

সভায় এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এফবিসিসিআইয়ের পক্ষে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন ব্যারিস্টার নিহাদ কবির।

সভায় কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজনের সময়সীমা, কোম্পানি সচিব নিয়োগ এবং স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়েও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন