ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

জিকিউ বলপেনের বকেয়া কর-ভ্যাট ১৪ লাখ টাকা

২০২৬ অক্টোবর ২০ ০৯:১৯:২১
জিকিউ বলপেনের বকেয়া কর-ভ্যাট ১৪ লাখ টাকা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিনিয়োগের ন্যায্য মূল্যায়ন এখনো সম্পন্ন হয়নি। পাশাপাশি কোম্পানিটির ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত উৎসে কর্তন করা আয়কর ও মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া পাওনা আদায়ে সম্ভাব্য লোকসানের বিপরীতে সংরক্ষিত অর্থ নির্ধারণেও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও পাওনার বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণের ঘাটতি রয়েছে। কোম্পানিটির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন নিরীক্ষক।

নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালাদেশ ইন্টারন্যাশনাল (প্রাইভেট) লিমিটেডে জিকিউ বলপেনের বিনিয়োগের পরিমাণ ২ কোটি ১৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮০ টাকা। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই বিনিয়োগের ন্যায্য মূল্যায়ন চলমান ছিল। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জমিসহ অন্তর্নিহিত সম্পদের আনুমানিক ন্যায্য মূল্যের ভিত্তিতে নিরীক্ষক আশা প্রকাশ করেছেন, এ বিনিয়োগের ফল কোম্পানির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়ায় বিনিয়োগটির প্রকৃত ন্যায্য মূল্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কোম্পানিটির বকেয়া কর ও ভ্যাটের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত উৎসে কর্তন করা ৬ লাখ ২০ হাজার ৭৪ টাকা ভ্যাট এবং ৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৩৯ টাকা আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে বকেয়া কর-ভ্যাটের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৮১৩ টাকা।

তবে নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোম্পানিটি বকেয়া অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ২৬ জুলাই ৯৪ হাজার ৭৭০ টাকা আয়কর এবং একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৬ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ২ লাখ ১৩ হাজার ৩১৬ টাকা পরিশোধ করা হলেও অবশিষ্ট ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯৭ টাকা তখনো সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া বাকি ছিল।

এ ছাড়া কোম্পানিটির গ্রাহক ও অন্যান্য পাওনা থেকে অর্থ আদায় না হওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় সংরক্ষিত অর্থ নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নিরীক্ষক। আর্থিক বিবরণীর নোট ৮ ও ২৩.০৬ অনুযায়ী, অনাদায়ী পাওনার বিপরীতে ১০ লাখ ১৯ হাজার ৫২২ টাকা সংস্থান রেখেছে কোম্পানিটি। তবে এ সংস্থান নির্ধারণে কোনো আনুষ্ঠানিক নীতিমালা কিংবা পাওনার বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুসরণ করা হয়নি। নিরীক্ষকের মতে, এ ধরনের সংস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও পাওনার বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণ থাকা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, কোম্পানির নামের শেষে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির পরিচিতি ‘পিএলসি.’ যুক্ত না করার বিষয়টিও নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ১১এ ধারার উল্লেখ করে নিরীক্ষক বলেছেন, আইন অনুযায়ী নামের শেষে ‘পিএলসি.’ যুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত বিধান পরিপালনে কোম্পানির ব্যবস্থাপনাকে পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে নিরীক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, নামের এই ত্রুটির নিরীক্ষাধীন আর্থিক বিবরণীতে সরাসরি কোনো আর্থিক প্রভাব নেই।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন