ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

তুরাগ রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের ১৮৪ কোটি টাকার ঋণ

২০২৬ অক্টোবর ২২ ০৮:৪৪:৩১
তুরাগ রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের ১৮৪ কোটি টাকার ঋণ

দূষণে বিপর্যস্ত তুরাগ নদ রক্ষায় ১৮৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। প্রকল্পের পুরো অর্থ ঋণ হিসেবে দেবে বিশ্বব্যাংক। শিল্পবর্জ্য নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ, দূষণের উৎস শনাক্ত, নদীর পানির মান পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশ আইন প্রয়োগ জোরদার করার মাধ্যমে নদটির পরিবেশগত অবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম: ইন্টিগ্রেটেড পলিউশন মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট সিস্টেম অব তুরাগ রিভার ইসিএ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তুরাগ নদের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বব্যাংকের মতো উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এতে অর্থায়ন করায় প্রকল্পটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও নদ দখলের কারণে তুরাগের পরিবেশগত অবস্থা ক্রমেই খারাপ হয়েছে। একসময় কৃষি, মাছ ধরা ও গৃহস্থালি কাজে মিঠাপানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল নদটি। পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখত তুরাগ। কিন্তু দূষণের কারণে নদটির পরিবেশ ও আশপাশের জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে।

শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণে নজরদারি

প্রকল্পের আওতায় তুরাগের দূষণপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে মানচিত্র তৈরি করা হবে। নদে বর্জ্য নিঃসরণকারী শিল্পকারখানার তালিকা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি শিল্পবর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন ও কার্যকর রাখার বিষয়টি তদারকি করা হবে।

এ জন্য অন্তত ১০০টি সরাসরি অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। অননুমোদিত শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে চিঠি দেওয়া ও জরিমানা আরোপের ব্যবস্থাও থাকবে। পাশাপাশি তুরাগ তীরের চিহ্নিত ১৭৩টি শিল্পকারখানায় স্থাপিত বর্জ্য শোধনাগারের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিল্পকারখানায় পানির মান পর্যবেক্ষণে তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহকারী অনলাইন ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। নদীতীরে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা ও জমা করার স্থানগুলো ড্রোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ছাড়া নৌযানে টহল দিয়ে নদীর পানির মান পর্যবেক্ষণ এবং ভূপৃষ্ঠের পানির মান যাচাইয়ের নির্দেশিকা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

থাকছে অভিযোগ ব্যবস্থা ও পরিবেশবান্ধব শিল্পকে উৎসাহ

তুরাগের পানির গুণগত মান পর্যবেক্ষণে ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা (জিআইএস) ভিত্তিক সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ৩৩৩-৪ কলসেন্টারকে সমন্বিত অভিযোগ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া দেশে ৪০টি ও বিদেশে পাঁচটি প্রশিক্ষণ এবং ১৫টি কর্মশালা ও সেমিনারের আয়োজন করা হবে। পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া শিল্পকারখানাকে উৎসাহিত করতে দেওয়া হবে ‘গ্রিন স্টার’ স্বীকৃতি। নদীদূষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিলবোর্ড, সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালানো হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক সদস্য মো. মাহমুদুল হোসাইন খান লিখিত বক্তব্যে বলেন, শিল্পকারখানায় পানির মান পর্যবেক্ষণের অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলে বর্জ্য শোধনাগারের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। এতে তুরাগের পানির গুণগত মান, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে প্রকল্পটির অনুমোদন, বাস্তবায়ন এবং শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই তুরাগের দূষণ নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগটির সাফল্য নির্ভর করবে।

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন