ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

বন্ধ হয়ে যেতে পারে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক

২০২৩ ডিসেম্বর ১৯ ০৯:৫১:০০
বন্ধ হয়ে যেতে পারে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক

কয়েক বছর ধরে ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত স্বল্পমূলধনী স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের। এরমধ্যে সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটির বড় লোকসান হয়েছে। যাতে কোম্পানিটির ইক্যুইটি ঋণাত্মক হয়ে গেছে। এছাড়া চলতি সম্পদের থেকে চলতি দায়ের পরিমাণ অনেক বেশিতে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে আবার কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মূলধনের থেকেও বেশি ভূয়া সম্পদ দেখিয়েছে। যে কোম্পানিটির চলতি মূলধনের সংকটে দ্রুত ব্যাংক ঋণ বাড়ছে। যা ভবিষ্যতে কোম্পানিটির ব্যবসা টিকিয়ে রাখাকে হূমকিতে ফেলেছে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

কোম্পানিটির ২০২২-২৩ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় এ তথ্য জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে সম্পদ হিসাবে ১২ কোটি ৩২ লাখ টাকার মজুদ পণ্য দেখিয়েছে। এরমধ্যে পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় (ওয়ার্ক ইন প্রসেস) ৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকার কাঁচামাল ছিল। তবে ওই মজুদ পণ্যের অস্তিত্ব এবং মূল্য যাচাইয়ের মতো কোন রেজিস্টার, স্টেটমেন্ট বা প্রমাণাদি দিতে পারেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

এই কোম্পানিটির বাৎসরিক ৬৫০০ মেট্রিক টন বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক। যে কোম্পানিটির ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৬৬৩ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। অথচ এই কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ১০৯৯ মেট্রিক টন বা ৫ মাসের বেশি সময়ের কাঁচামাল উৎপাদন প্রক্রিয়ায় (ওয়ার্ক ইন প্রসেস) রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। যেটাকে অবাস্তব বলছে নিরীক্ষক। এক্ষেত্রে নিরীক্ষক বলছে, কোম্পানিটির যদি ১৫ দিনেরও ওয়ার্ক ইন প্রসেস থাকে, তাহলে তার মূল্য হবে ৮৬ লাখ টাকা। এ হিসেবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ৮ কোটি ১২ লাখ টাকার ওয়ার্ক ইন প্রসেস বেশি দেখিয়েছে। এর মাধ্যমে নিট লোকসান কম দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে নিট সম্পদ, মজুদ পণ্য ও ইক্যুইটি বেশি দেখানো হয়েছে।

কোম্পানিটি চলতি মূলধনের বা দৈনন্দিন কাজে প্রযোজনীয় অর্থের সংকটে ভুগছে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক। যা কোম্পানিটিকে ব্যাংক ঋণের উপর নির্ভরশীল করে তুলেছে। কোম্পানিটির পরিচালন লোকসানের কারনে ব্যাংক ঋণ দ্রুত বাড়ছে। অথচ কোম্পানিটির ২০ কোটি ১২ লাখ টাকা পূঞ্জীভূত লোকসান এবং ইক্যুইটি ঋণাত্মক হয়ে গেছে ৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আর ১৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার চলতি সম্পদের বিপরীতে চলতি দায় দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ১০ লাখ টাকায়।

স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের এই শোচণীয় অবস্থায় কোম্পানিটির ভবিষ্যতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা হূমকিতে ফেলেছে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক। যদিও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা নিয়ে পরিকল্পনা দিয়েছে। এক্ষেত্রে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন নিরীক্ষক।

আরও পড়ুন.....

বছর না যেতেই শিবলী কমিশনের দুই ব্যাংকের বন্ধের উপক্রম : পাইপলাইনে বিতর্কিত এনআরবি ব্যাংক

এদিকে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ি ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে অবন্টিত লভ্যাংশ হস্তান্তর করেনি স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ।

স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকে ৯৩ লাখ ৭১ হাজার টাকার অবন্টিত লভ্যাংশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক। এরমধ্যে ৮৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ি ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে স্থানান্তর করেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ পণ্য বিক্রি, কাচাঁমাল ক্রয়, মজুদ পণ্য এবং স্থায়ী সম্পদের বিষয়ে রেজিস্টার দেয়নি। যা কোম্পানি আইনের ১৮১ ধারা অনুযায়ি দেওয়া বাধ্যতামূলক।

২০১৫ সালের শ্রম আইনের ২৫০ অনুযায়ি প্রভিডেন্ড ফান্ড হিসাবে স্টান্ডার্ড সিরামিকের অর্থ হস্তান্তর করা দরকার। কিন্তু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ওই ফান্ডে হস্তান্তর করেনি বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক। তবে তারা ওই অর্থের বিপরীতে ৮% হারে সুদ হিসাব করে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদদের মালিকানা ৬৯.৫০ শতাংশ। কোম্পানিটির সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) লেনদেন শেষে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৬৯.৬০ টাকায়।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে