ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১

সর্বোচ্চ বিনিয়োগ সুকুকে

আইএফআইসি ব্যাংকের টাকা বেক্সিমকোতে

২০২৪ মে ২০ ০৯:২০:৫৭
আইএফআইসি ব্যাংকের টাকা বেক্সিমকোতে

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : সাবসিডিয়ারি কোম্পানিসহ আইএফআইসি ব্যাংক থেকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানিতে ১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র আইএফআইসি ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ করা হয়েছে ৬৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এরমধ্য থেকে ৪৪৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা বা ৬৭ শতাংশই বিনিয়োগ করা হয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ও বেক্সিমকো গ্রীন সুকুক বন্ডে।

এককভাবে সবচেয়ে বেশিসরকারের মালিকানাধীন এ ব্যাংকটিতে চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমান। তার ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমান ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন।

আইএফআইসি ব্যাংক থেকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও শেয়ারে ৬৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এরমধ্যে শেয়ারে ২৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, বন্ডে ৩৮৯ কোটি ১২ লাখ টাকা ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

আইএফআইসি ব্যাংক থেকে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে সুকুক বন্ডে। কোম্পানিটি থেকে ওই বন্ডে ২৮৯ কোটি ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এরমধ্যে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকে সুকুকে ৮০ কোটি টাকা এবং নিজস্ব তহবিল থেকে ২০৯ কোটি ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

এই ব্যাংকটি থেকে ২৮ কোম্পানিতে ২৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে। এ কোম্পানিটিতে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকে ৭৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং নিজস্ব তহবিল থেকে ৩২ কোটি টাকাসহ মোট ১১০ কোটি ১৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

এরপরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডে। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে।

আইএফআইসি ব্যাংকের ২৮ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকৃত ২৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বাজার দর (৩১ ডিসেম্বর) দাঁড়িয়েছে ২৯৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকটি ৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকার আনরিয়েলাইজড মুনাফায় রয়েছে।

এই ব্যাংকটি থেকে আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও আইসিবি এমপ্লয়ীজ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। যার বাজার দর রয়েছে ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

আনরিয়েলাইজড ছাড়াই আইএফআইসি ব্যাংকের সমন্বিত হিসাবে শেয়ারবাজার থেকে ২০২৩ সালে ৩৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকার রিয়েলাইজড গেইন হয়েছে। তবে এর আগের বছরে হয়েছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

এই ব্যাংকটির ক্যাপিটাল গেইন ও নিট সুদজনিত আয় বৃদ্ধির পরেও আগের বছরের ৩৪৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার নিট মুনাফা কমে ২০২৩ সালে হয়েছে ৩০০ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অন্যভাবে বললে আগের বছরের শেয়ারপ্রতি ১.৮৮ টাকার মুনাফা কমে হয়েছে ১.৬৪ টাকা।

মুনাফায় এই পতনের পেছনে কারণ হিসেবে রয়েছে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি। ব্যাংকটির বছরের ব্যবধানে ৮৪৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার পরিচালন ব্যয় ২০২৩ সালে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অর্থাৎ পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ১৭৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

ব্যাংকটির সমন্বিতভাবে আগের বছরে নিট সুদজনিত আয় ৮০৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা হলেও ২০২৩ সালে বেড়ে হয়েছে ৮৩৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে ব্যাংকটির সচিব মো. মোকাম্মেল হককে ফোন দিলে তিনি ওভারফোনে মন্তব্য করার সুযোগ নেই বলে জানান।

ব্যাংকটির এই সুদজনিত আয় করতে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঋণ বিতরনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৪৯৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। যার পরিমাণ আগের বছর ছিল ৩২ হাজার ৯৯০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু করা আইএফআইসি ব্যাংকের আইএফআইসি সিকিউরিটিজ, আইএফআইসি মানি ট্রান্সফার (ইউকে) লিমিটেড ও আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্ট নামের ৩টি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি রয়েছে। এছাড়া সহযোগি কোম্পানি হিসাবে ওমানে ওমান এক্সচেঞ্জ এলএলসি রয়েছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে