ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

ছয় মাসে শেয়ারবাজারে সংস্কার, সূচকে ৫ শতাংশের বেশি উত্থান

২০২৬ আগস্ট ১৭ ০৭:১৩:৫৪
ছয় মাসে শেয়ারবাজারে সংস্কার, সূচকে ৫ শতাংশের বেশি উত্থান

অর্থ-বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বলতা দূর করতে গত ছয় মাসে একাধিক সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এসব উদ্যোগে বাজারে কিছুটা গতি ফিরলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো মৌলভিত্তির সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি দেখা যায়নি। ফলে সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রগতি থাকলেও এর প্রত্যাশিত প্রতিফলন এখনো সীমিত।

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় বিএসইসি বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, হুইসেলব্লোয়ার বিধিমালা, মার্জিন ঋণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন, করপোরেট সুশাসন জোরদার এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচকটি ছিল ৫ হাজার ৫৭০ দশমিক ৫৯ পয়েন্টে। ১৬ আগস্ট তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে। অর্থাৎ ছয় মাসে সূচক বেড়েছে ২৮৯ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।

একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনও আগের ছয় মাসের তুলনায় বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে বাজার মূলধনে কিছুটা পতন হয়েছে।

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার

গত ছয় মাসে বিএসইসির অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত ছিল প্রায় চার বছর পর ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার। এর ফলে এসব শেয়ারের স্বাভাবিক বাজারদর নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া অনিয়ম ও কারসাজির তথ্য প্রকাশকারীদের সুরক্ষা দিতে হুইসেলব্লোয়ার বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। মার্জিন ঋণ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইপিও ও সুশাসনে সংস্কার

করপোরেট সুশাসন নির্দেশিকায় পরিবর্তনের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষায় যোগ্য নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার জন্য খসড়া নির্দেশিকা তৈরি করেছে বিএসইসি।

এ ছাড়া কোম্পানির একীভূতকরণ, বিভাজন ও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও শেয়ারবাজারে কিছু কর-প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

সংস্কারের বাস্তব প্রয়োগ জরুরি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন মনে করেন, শুধু সংস্কারের উদ্যোগ নিলেই হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, ঘন ঘন নীতি পরিবর্তনের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। সংস্কার শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার বাস্তব প্রতিফলন বাজারে দেখা জরুরি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা আনা, বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষা, ব্রোকারদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু এবং বিধিমালা সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইপিও, সরাসরি তালিকাভুক্তি, মার্জিন ঋণ, মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড বাজারের বিধিমালা সংস্কারে কাজ চলছে। এসব পদক্ষেপে বাজার ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম সংস্কার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে এবং নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির পথও তৈরি হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন