ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

আইপিও ছাড়াই বড় কোম্পানির তালিকাভুক্তির সুযোগ

২০২৬ অক্টোবর ০৬ ১৮:২৫:৫৩
আইপিও ছাড়াই বড় কোম্পানির তালিকাভুক্তির সুযোগ

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে বড় দেশি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে টানতে আইপিও ছাড়াই সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করা কোম্পানিগুলো সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। বড় কোম্পানিগুলোর আইপিওতে আসতে অনীহার কারণে নতুন এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

মাসুদ খান বলেন বড় কোম্পানিগুলোকে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ দিতে নতুন নিয়ম করা হচ্ছে। যেসব কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার অথবা মোট সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকার বেশি তাদের এই সুযোগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আসা বাধ্যতামূলক হবে না।

তিনি বলেন অনেক বহুজাতিক ও বড় দেশীয় কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আসতে চায় না। কারণ তালিকাভুক্ত হলে তাদের বিভিন্ন ধরনের নিয়মকানুন পরিপালন করতে হয়। কর ও পরিচালনা পর্ষদসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ও থাকে। এসব কারণে বড় কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির বাইরে রাখা উচিত নয়।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন একটি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে তার বাজারমূল্য বা মূল্যায়ন তৈরি হয়। একই সঙ্গে ব্যাংক থেকেও তালিকাভুক্ত কোম্পানি ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা পায়। প্রয়োজনে কোম্পানি পরবর্তী সময়ে রাইট শেয়ার বা পাবলিক অফারের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। মালিকদের জন্যও শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিনিয়োগ থেকে বের হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তিনি বলেন বড় কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনতে বিএসইসি সরাসরি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। দেশে বাজার মূলধন বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজারের বাজার মূলধন ও জিডিপির অনুপাত মাত্র প্রায় ৬ শতাংশ। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এ হার অনেক কম।

মাসুদ খান বলেন শেয়ারবাজারের আকার বাড়াতে শুধু নতুন বিনিয়োগকারী আনা যথেষ্ট নয়। ভালো ও বড় কোম্পানিকে বাজারে আনতে হবে। একই সঙ্গে আইপিও ও বন্ডের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বর্তমানে আইপিও বা বন্ড অনুমোদনে প্রায় এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে। এই প্রক্রিয়াও দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। অথচ পাকিস্তানের বাজারে দৈনিক লেনদেন প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। বাজার মূলধন বাড়লে লেনদেনও বাড়বে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোও জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে প্রায় ৯৩ শতাংশ বিনিয়োগকারী খুচরা। বিপরীতে মালয়েশিয়ার বাজারে খুচরা বিনিয়োগকারীর অংশ প্রায় ১৯ শতাংশ এবং ভারতে প্রায় ৩৩ শতাংশ। তাই বড় প্রতিষ্ঠান ও দীর্ঘমেয়াদি তহবিলকে শেয়ারবাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ জন্য করপোরেট বন্ড বাজারও বড় করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বীমা কোম্পানির জীবন তহবিলসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের বড় অংশ শেয়ার ও করপোরেট বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে চায় বিএসইসি। পাশাপাশি শেয়ার ঋণের ব্যবস্থা করে ফিউচার ও ডেরিভেটিভস বাজার চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

মাসুদ খান বলেন রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (রেইট) চালুর কাঠামো নিয়েও কাজ চলছে। একই সঙ্গে আর্থিক বিশ্লেষকদের জন্য নিবন্ধিত ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট ব্যবস্থা চালুর নিয়ম ও প্রক্রিয়া তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন শেয়ারবাজারকে বড় করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন