ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির ৫৭ শতাংশই পাঁচ দেশে

২০২৬ অক্টোবর ১৩ ০৮:২৭:৪৩
অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির ৫৭ শতাংশই পাঁচ দেশে

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের বড় অংশই এখন পাঁচটি দেশের ওপর নির্ভরশীল। দেশগুলো হলো জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়া। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসব দেশে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১০২ কোটি ৫২ লাখ ডলারের বেশি, যা অপ্রচলিত বাজারে মোট রপ্তানির ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এ সময়ে পাঁচ দেশে রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৮১ কোটি ডলারের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে জাপানে। তবে কয়েকটি দেশের ওপর রপ্তানি বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় নতুন বাজার সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, প্রচলিত বাজারের বাইরে রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় বিকল্প বাজারে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় তুলনামূলক বেশি দামের পোশাকের চাহিদা রয়েছে। তবে ওই চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

জাপান শীর্ষে, ভারতে কমেছে রপ্তানি

অপ্রচলিত বাজারের শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে জাপানে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।

অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ২০ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক, বেড়েছে ১ দশমিক ০২ শতাংশ। ভারতে রপ্তানি হয়েছে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক। তবে দেশটিতে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে ভারতেই রপ্তানি কমেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি।

তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি

শীর্ষ পাঁচ বাজারের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হয়েছে তুরস্কে। দেশটিতে পোশাক রপ্তানি ১২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এক বছরে তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ৮ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। শীর্ষ পাঁচ দেশের সম্মিলিত রপ্তানি বৃদ্ধির প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে এই একটি বাজার থেকে। তুরস্ককে বাদ দিলে বাকি চার দেশে রপ্তানি বৃদ্ধির হার মাত্র ১ দশমিক ০৪ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরেও শীর্ষ পাঁচ দেশে রপ্তানি বেড়েছে। ওই মাসে এসব দেশে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলারের, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। এ সময়ে তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ২২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং জাপানে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিপরীতে ভারতে রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ।

নিট পোশাক প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়লেও প্রবৃদ্ধির সুযোগ সীমিত হতে পারে। এসব দেশের অনেকের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল এবং কিছু দেশ নিজেরাই পোশাক উৎপাদন করে। ফলে সেখানে বাজার সম্প্রসারণে বাড়তি চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়লেও প্রবৃদ্ধির বড় অংশ কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে তুরস্কের বাজারে দ্রুত রপ্তানি বৃদ্ধি সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি বাড়াতে নতুন বাজার খোঁজার পাশাপাশি বিদ্যমান বাজারগুলোতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন