ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

তাসিয়া সিকিউরিটিজের সম্পদ ও গ্রাহক হিসাব তদন্তের আওতায়

২০২৬ অক্টোবর ১৭ ০৮:৫০:১০
তাসিয়া সিকিউরিটিজের সম্পদ ও গ্রাহক হিসাব তদন্তের আওতায়

শেয়ারবাজারের ব্রোকারেজ হাউস তাসিয়া সিকিউরিটিজ লিমিটেডের নিট সম্পদে ঘাটতির কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা, গ্রাহকদের অর্থ ও শেয়ারের হিসাব এবং পরিচালনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি যাচাই করবে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। এ জন্য কমিটিকে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এ বিষয়ে তদন্তের আদেশ জারি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন কমিশনের উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক, সহকারী পরিচালক মো. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের উপব্যবস্থাপক মো. আল আমিন। তদন্তের আদেশ তাসিয়া সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কমিশনের আদেশে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির নিট সম্পদের ঘাটতি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। এ জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এবং ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেটসংক্রান্ত ২০২০ সালের বিধিমালার আওতায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিট সম্পদ নিয়ে বিধান

বিধি অনুযায়ী, ব্রোকারেজ হাউসের নিট সম্পদ পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ৭৫ শতাংশ থাকতে হয়। এ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) বাতিলের বিধান রয়েছে। তাসিয়া সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে এ শর্ত পরিপালনের অবস্থা এবং সম্পদের ঘাটতির কারণ তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।

চাওয়া হয়েছে তিন বছরের আর্থিক নথি

তদন্তের অংশ হিসেবে তাসিয়া সিকিউরিটিজের লাইসেন্স, ট্রেক, স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার ও ডিপি-সংক্রান্ত নথি চেয়েছে বিএসইসি। পাশাপাশি সর্বশেষ তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দিতে বলা হয়েছে। এসব নথির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আয়-ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে।

এ ছাড়া ডিলার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগের পোর্টফোলিও, গত তিন বছরের তুলনামূলক আর্থিক অবস্থার বিবরণী এবং লাভ-ক্ষতি ও অন্যান্য সামগ্রিক আয়ের হিসাব চাওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন, আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন এবং পরিচালনা পর্ষদের সভার কার্যবিবরণীও চেয়েছে কমিশন।

গ্রাহকদের টাকা ও শেয়ারের হিসাব যাচাই

তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গ্রাহকদের অর্থ ও শেয়ার-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে। বিএসইসি ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের ৩১ জুলাইয়ের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবের (সিসিএ) তথ্য চেয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের ২০ আগস্টের গ্রাহকভিত্তিক শেয়ার ধারণের তথ্য ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার থেকে এক্সেল ও পিডিএফ ফরম্যাটে জমা দিতে বলা হয়েছে।

ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ ও শেয়ার ব্যবস্থাপনা করা হয়। তাই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থের সঙ্গে গ্রাহকদের অর্থ ও সম্পদের হিসাব যথাযথভাবে পৃথক রাখা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে তাসিয়া সিকিউরিটিজের আর্থিক অবস্থার পাশাপাশি গ্রাহকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন