ঢাকা, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

বিএসইসিতে সংস্কার দরকার

শিবলী রুবাইয়াত ও তার সহযোগি ৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত

২০২৪ সেপ্টেম্বর ১০ ০৮:৫৯:০৯
শিবলী রুবাইয়াত ও তার সহযোগি ৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সদ্য পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এবং তার ৮ জন সহযোগী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারনার অভিযোগে দূর্ণীতি দমন কমিশনের (দুদক) মানি লন্ডারিং শাখা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে দূর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইন ও বিধিমালা লংঘন করে স্ব স্ব নামে ও তাদের পরিবারের পরিজনের নামে বেনামে দেশে ও বিদেশে (সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে) উৎস বহির্ভূত ১০০০ কোটি টাকা সম পরিমান স্থাবর, অস্থাবর, অবৈধ সম্পদের অভিযোগ রয়েছে। যা অনুসন্ধান/তদন্ত করে ওইসব অবৈধ সম্পদ ক্রোক/ফ্রিজ করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

এই ৮জন সহযোগী কর্মকর্তা হচ্ছেন- সাবেক কমিশনার শেখ শামসুদ্দীন আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক মোঃ মাহবুবুল আলম, নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক শেখ মাহবুবুর রহমান, পরিচালক মোঃ মাহমুদুল হক, অতিরিক্ত পরিচালক এস কে মোহাম্মদ লুৎফুল কবির ও যুগ্ন পরিচালক ও চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারি মো. রাশিদুল আলম।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জাবেদ এ মতিনের হংকংয়ের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ কোটি ৩৪ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়া, প্রতারণার অর্থ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে পাচার করে আনা এবং এ ক্ষেত্রে অধ্যাপক শিবলীর প্রত্যক্ষ সহায়তার তথ্য পাওয়া গেছে। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে বসে বেআইনিভাবে শেয়ার ব্যবসা করেছেন শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। শেয়ার ব্যবসা করতে গিয়ে শিবলী রুবাইয়াত শেয়ার কারসাজির অন্যতম হোতা আবুল খায়ের হিরোর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি এলআর গ্লোবালকে একের পর এক বিতর্কিত সুবিধা দিয়েছেন শিবলী। এলআর গ্লোবালের সিইও রিয়াজ ইসলামের সঙ্গে দুবাইয়ে সিগমা ম্যানেজমেন্ট নামে যৌথ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন তিনি। ওই কোম্পানির পার্টনার শিবলীর বড় ছেলে যুহায়ের ইসলাম।

বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার সময়ই শিবলী ঋণখেলাপি ছিলেন। অর্থঋণ আদালতে মামলায় ২০০৭ সাল থেকেই টানা প্রায় ১৬ বছর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ঘুরছিলেন তিনি। চেয়ারম্যান পদে চার বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালনের প্রথম দুই বছর চার মাস পর্যন্ত তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন এবং তাঁর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের ডিন থাকাকালীন অনৈতিকভাবে ডাকসুর ৮ নেতাসহ ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করায় জড়িত থাকার অভিযোগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

মাহমুদুল হক সরকারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পেয়েছেন। এমনকি বর্তমান দায়িত্বে তিনি নিয়ম লংঘন করে মেয়াদ বৃদ্ধি করিয়েছেন। তফসিল লঙ্ঘন করে ২০২২ সালের ৯ নভেম্বর অফিস আদেশের মাধ্যমে মোঃ মাহমুদুল হককে কমিশন সচিবালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মোঃ মাহমুদুল হক শিবলি রুবাইয়াতের অনৈতিকে এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করে এসেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে শিবলী কমিশন সভার সিদ্ধান্ত সমূহ (এজেন্ডা, তারিখ) অন্যান্য কমিশনারকে না জানিয়েই নিজের মতো করে পরিবর্তন করে ফাইলে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। সালমান এফ রহমানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অবৈধ সুবিধা দিতে সহায়তা করেছে মো. মাহমুদুল হক। শিবলীর বিরুদ্ধে মাহমুদুল হকের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানীর পর্ষদ ভেঙ্গে প্রায় ২৬টি কোম্পানী দখল করার অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন....

আইপিওতে বিএসইসি কর্মকর্তাদের বেনামে শেয়ার ঘুষ

বিএসইসিতে অনেক অসৎ কর্মকর্তা: শাস্তির দাবি

বিএসইসির দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন

বিএসইসিতে লুৎফুল কবিরদের মতো অনেক দূর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা : স্বচ্ছতা কিভাবে সম্ভব?

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, শেখ শামসুদ্দীন আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান এবং আবুল খায়ের হিরু মিলে বন্ধ থাকা কোম্পানি চালুর উদ্যোগ নেন। এরা অবৈধভাবে সুবিধা নিয়ে বন্ধ কোম্পানি চালু করার নামে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে নিজস্ব লোকদের নতুন পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ দিয়ে বেশকিছু কোম্পানি দখল করেন। এরমধ্যে এমারেল্ড অয়েলের পর্ষদ ভেঙ্গে মিনোরি বাংলাদেশকে মালিকানা দিয়ে শেয়ার কারসাজি করে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আছে।

এসকে মোঃ লুৎফুল কবির দীর্ঘদিন ধরে ক্যাপিটাল মার্কেট রেগুলেটরি রিফর্মস অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগে থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে সুযোগ দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। যিনি বেক্সিমকোর আলোচিত ৩ হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ড ও সোনালি পেপারের রাইট ইস্যুতে আইন পরিবর্তন করে অন্যায়ভাবে ওই ২ কোম্পানিকে সুযোগ করে দিয়েছেন। এছাড়া দূর্বল কোম্পানির পর্ষদ ভেঙ্গে দখল নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এমনকি আইন পরিবর্তন হওয়ার আগে ও পরে বেনামে শেয়ার কিনে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।

চেয়ারম্যানের পিএস মো. রাশিদুল আলম সরকারি চাকরি বিধিমালা লংঘন করে ১৪ বছর ধরে একই স্থানে (চেয়ারম্যানের পিএস) কাজ করছেন। এছাড়া বিধিমালা অনুসারে উপপরিচালক থেকে যুগ্ম পরিচালক হতে সময় লাগে ন্যূনতম ৫ বছর। কিন্তু রাশিদুল আলম এর ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি। ২০২১ সালের ২৯ জুন রাশিদুল আলম উপপরিচালক হিসাবে পদোন্নতি পান। কিন্তু মাত্র ১ বছর ২ মাস পর ২০২২ সালের ৩০ আগস্ট তাকে যুগ্ম পরিচালক হিসাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনি চেয়ারম্যানের পিএস হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন বলে কমিশনের অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়। শিবলি রুবাইয়াতের শেয়ার বাজার কারসাজি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বানিজ্যের মত একাধিক অনৈতিক কাজে রাশিদুল আলম সহায়তা করেছেন বলে জানা গেছে।

এইসব অভিযোগ আমলে নিয়ে দূদকের মানি লন্ডারিং শাখা দুদক উক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন