ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

১৩ কোটি টাকার বেশি গরমিল হিসাব

ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংকে ক্ষতিগ্রস্থ করে সহযোগি কোম্পানিকে সুবিধা

২০২৬ মার্চ ৩০ ০৯:১৫:৩০
ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংকে ক্ষতিগ্রস্থ করে সহযোগি কোম্পানিকে সুবিধা

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে ১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকার হিসাবে গরমিল পেয়েছে নিরীক্ষক। যে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা/পরিচালকেরা শেয়ারবাজারের হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে ক্ষতি করে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং থেকে অর্থ নিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত কোম্পানিকে সুবিধা দিচ্ছে।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন সহযোগি কোম্পানি ‘আবসার অ্যান্ড ইলিয়াস এন্টারপ্রাইজ’ থেকে ৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ও ‘ইন্ট্রাকো অটোমোবাইলস’ ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার লভ্যাংশ কয়েক বছর ধরে পাওনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ৫ কোটি ৭১ লাখ টাকার লভ্যাংশ পাওনা হলেও তা আদায় হচ্ছে না।

এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারের হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর মালিকানাধীন ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং বিনিয়োগের বিপরীতে লভ্যাংশ না পেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বিপরীতে এই কোম্পানির বিনিয়োগ নিয়ে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের উদ্যোক্তা/পরিচালকদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ‘আবসার অ্যান্ড ইলিয়াস এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ইন্ট্রাকো অটোমোবাইলস’ সুবিধা পাচ্ছে।

অথচ শেয়ারবাজারের এই ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং থেকে শুধুমাত্র সাধারন শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত ১.২৫% নগদ লভ্যাংশ প্রেরণ না করার জন্য কোম্পানিটিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। যথাসময়ে লভ্যাংশ বিতরন না করার কারনে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসই কোম্পানিটিকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠিয়েছে। জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের কারনে কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগে মার্জিন ঋণ বন্ধ রয়েছে।

ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের আর্থিক হিসাবে অগ্রিম আয়কর হিসাবে ৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। যা কয়েক বছর আগে প্রদান করা হলেও কোম্পানির আয়কর দায়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

এদিকে কোম্পানিটিতে ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) রয়েছে। যা কয়েক বছর ধরে আর্থিক হিসাবে দেখিয়ে আসছে। তবে শ্রম আইন অনুযায়ি বিতরণ করছে না বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

এই কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস)-১৬ অনুযায়ি, লীজ হিসাব করে না বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে না ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের। কোম্পানিটির চলতি অর্থবছরের ৬ মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) ব্যবসায় ৫৩ শতাংশ মুনাফা কমেছে।

কোম্পানিটির ৬ মাসে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৩৪ টাকা। যার পরিমাণ এর আগের বছরের একই সময়ে হয়েছিল ০.৭৩ টাকা। এ হিসাবে ইপিএস কমেছে ০.৩৯ টাকা বা ৫৩ শতাংশ।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৯৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৯.৯৪ শতাংশ। কোম্পানিটির রবিবার (২৯ মার্চ) শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৮.৮০ টাকায়।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে