ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঈদের খরচে প্রবাসী আয়ের জোয়ার

২০২৬ মে ২৬ ২৩:০৪:৩৯
ঈদের খরচে প্রবাসী আয়ের জোয়ার

ঈদ মানেই বাড়তি আনন্দ, সঙ্গে বাড়তি খরচ। কোরবানি, নতুন পোশাক, উপহার ও উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটায় পরিবারের ব্যয় হঠাৎই বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত খরচ সামাল দিতে দেশের প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী পরিবারের ভরসা মূলত রেমিট্যান্স। তাই প্রতিবছর ঈদ এলেই প্রবাসী আয়ের প্রবাহে দেখা যায় উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন, গড়ে ওঠে নতুন নতুন রেকর্ড।

বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত ঈদুল ফিতরের সময়, মার্চ মাসে। সে সময় আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ডলার। চলতি বছর আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে মাত্র ২৩ দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২৯৮ কোটি ডলার, দৈনিক গড়ে প্রায় ১৩ কোটি ডলার। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ঈদের মাস শেষে রেমিট্যান্স ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে পারে।

এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ঈদুল ফিতরের সময় রেমিট্যান্স আয় হয়েছিল প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার। একই বছরের ঈদুল আজহা উপলক্ষে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৯৭ কোটি ডলার। সে বছর ৭ জুন ঈদ হওয়ায় পরের মাসেও প্রবাসী আয়ের উচ্চ প্রবাহ বজায় ছিল।

নারায়ণগঞ্জের এক প্রবাসীর স্ত্রী আফিয়া সুলতানা বলেন, কোরবানি, ঈদের কেনাকাটা ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের কারণে ঈদের আগে প্রবাসীরা বেশি টাকা পাঠান, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশ্বব্যাংক–এর ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, রেমিট্যান্স বাড়ানোর ক্ষেত্রে হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগে বিদেশে ডলার লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ পাচার হতো, এখন সেই প্রবণতা কমে আসায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, ঈদের সময় প্রবাসীরা পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে অতিরিক্ত অর্থ পাঠান, ফলে এই সময়ে রেমিট্যান্সে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স আনতে সরকার ও ব্যাংকগুলোর নানা উদ্যোগের সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান, আর দেশের শীর্ষ পাঁচটি রেমিট্যান্স রেকর্ডই গড়ে উঠেছে ঈদকেন্দ্রিক সময়ে।

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে