ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

শেয়ারবাজার ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলার পথ খুলছে

২০২৬ জুলাই ২২ ০৮:১০:২৯
শেয়ারবাজার ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলার পথ খুলছে

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক: শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার সুযোগ রেখে নতুন সিকিউরিটিজ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ একীভূত করে নতুন আইন তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আইনটির খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। কমিশনের সুপারিশ যুক্ত করে খসড়াটি আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অকার্যকর হয়ে পড়া শেয়ারবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে কার্যকর করা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান সম্প্রতি বলেছেন, কমিশন নিয়মিত অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও বিচারিক জটিলতার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাস্তি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। আগের কমিশন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকার মতো। কারণ, শাস্তিপ্রাপ্তরা হাইকোর্টে রিট করে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন, ফলে বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকে।

২০১৫ সালে শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বর্তমান আইনে সরাসরি ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সুযোগ না থাকায় প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করতে হয়, পরে তা ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়াই বিচার বিলম্বের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে আসা ২৮টি মামলার মধ্যে ১১টি নিষ্পত্তি হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশে ১০টি মামলা স্থগিত রয়েছে। এছাড়া দুটি মামলা বাতিল এবং দুটি ফেরত দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে ট্রাইব্যুনালে আসা তিনটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করছেন গত ২২ জুন নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ।

বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে কার্যকর করা জরুরি। তবে বর্তমান আইনে সরাসরি মামলা দায়েরের সুযোগ না থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন আইনে এ বাধা দূর করে ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। খসড়াটি বর্তমানে বিএসইসির পর্যালোচনায় রয়েছে। কমিশনের মতামত শেষে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এদিকে, বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হাইকোর্টে শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত রিট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগও নিয়েছে বিএসইসি। কমিশনের মতে, একই ধরনের মামলার জন্য নির্দিষ্ট বেঞ্চ থাকলে শুনানি দ্রুত হবে এবং বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকার প্রবণতা কমবে।

বিএসইসির প্যানেল আইনজীবী মাসুদ রানা খান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিচারকাজ আটকে থাকায় অনেক মামলার সাক্ষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বয়সের ভারে দুর্বল হয়ে পড়ছেন। ফলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ এবং ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার বিধান চালু হলে শেয়ারবাজারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আরও শক্তিশালী হবে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন