ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

দাম বাড়িয়েও বিপিসিকে ৪৫০০ কোটি টাকার সুদমুক্ত ঋণ

২০২৬ অক্টোবর ০১ ০৪:৪৭:৩০
দাম বাড়িয়েও বিপিসিকে ৪৫০০ কোটি টাকার সুদমুক্ত ঋণ

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর মাত্র নয় দিনের মাথায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সুদমুক্ত ঋণ দিচ্ছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপিসির বড় ধরনের লোকসান এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে এ অর্থ দেওয়া হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার এ অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছে অর্থ বিভাগ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘পরিচালন ঋণ’ খাতে বরাদ্দ অর্থ থেকে বিপিসিকে এই ঋণ দেওয়া হবে।

অর্থ বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাঁচ বছরে ষান্মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। প্রথম ছয় মাস থাকবে গ্রেস পিরিয়ড। এ ঋণের জন্য অর্থ বিভাগের সঙ্গে বিপিসিকে চুক্তিও করতে হবে।

ছয় মাসে লোকসান ২২,৮৭৬ কোটি

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিপিসির ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

বিপিসির হিসাবে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে আমদানিকৃত জ্বালানির এলসি নিষ্পত্তি করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। দেশের বাজারে দীর্ঘ সময় দাম অপরিবর্তিত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারের দরের সঙ্গে বড় ব্যবধান তৈরি হওয়ায় এই লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগকে দেওয়া এক চিঠিতে বিপিসি লোকসানের অর্থ সরকারি ভর্তুকি হিসেবে পুনঃপরিশোধের দাবি জানায়। একই সঙ্গে নতুন অর্থায়ন না পেলে অক্টোবরেই জ্বালানি আমদানির এলসি খোলার মতো প্রয়োজনীয় তহবিল ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়।

একসঙ্গে ২০ টাকা দাম বাড়ে

২১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়। এতে ডিজেলের দাম ১১৫ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা করা হয়েছে।

চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একসঙ্গে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর ঘটনা দেশে নজিরবিহীন।

বিপিসির হিসাবে, নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় সংস্থাটির বার্ষিক ঘাটতি ও লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমতে পারে। তবে আমদানি ব্যয় মেটাতে তাৎক্ষণিক অর্থের প্রয়োজন থাকায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঋণ শেষ পর্যন্ত ভর্তুকি?

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া সরকারি ঋণের অর্থ শেষ পর্যন্ত ফেরত না আসার বিষয়টিও সামনে এসেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের অর্থ কাগজে ঋণ হিসেবে দেওয়া হলেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় তা পরিশোধ করতে পারে না। ফলে ঋণের অর্থ শেষ পর্যন্ত সরকারের ভর্তুকির বোঝা বাড়ায়।

এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জ্বালানি খাতে ৪২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই এ খাতে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।

২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিপিসি প্রতি বছর ৫ হাজার থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত মুনাফা করেছে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার সময় প্রতিষ্ঠানটি আবার লোকসানে পড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিপিসির লোকসান হয়েছিল ১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদিত খাত ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬, সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫সহ প্রযোজ্য সব আর্থিক বিধি অনুসরণ করতে হবে।

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন