ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

লভ্যাংশ আটকে রাখায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ০৮:৩০:১৫
লভ্যাংশ আটকে রাখায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদিত লভ্যাংশ নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করা এবং লভ্যাংশ বিতরণ-সংক্রান্ত বাধ্যতামূলক প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় প্রকৌশল খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি আফতাব অটোমোবাইলসের পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তিন পরিচালক, তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও কোম্পানি সচিবকে মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যক্তিগত জরিমানা করা হয়েছে।

বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের পাওনা অবণ্টিত লভ্যাংশ পরিশোধ করতে হবে আফতাব অটোমোবাইলসকে। নির্ধারিত সময়ে এ নির্দেশ পালন না করলে সংশ্লিষ্টদের প্রতিদিন আরও ১০ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হবে। বিএসইসি জানিয়েছে, জরিমানা পরিশোধ করলেও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়ার দায় থেকে কোম্পানি মুক্ত হবে না।

আদেশ অনুযায়ী, কোম্পানিটির চেয়ারম্যান শফিউল ইসলামকে ৩০ লাখ টাকা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলামকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিন পরিচালক খালেদা ইসলাম, সাজেদুল ইসলাম ও ফারহানা ইসলামের প্রত্যেককে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া তৎকালীন সিএফও সাহাদাত হোসেন মিয়াকে ১০ লাখ এবং কোম্পানি সচিব রাহাত মাহমুদকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, আফতাব অটোমোবাইলস ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডাররা লভ্যাংশটি অনুমোদন করেন। বিধান অনুযায়ী, এজিএমে লভ্যাংশ অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে তা বিনিয়োগকারীদের পরিশোধ করার কথা। সে হিসাবে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারির মধ্যে লভ্যাংশ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা ছিল কোম্পানিটির।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো লভ্যাংশ পরিশোধ করা হয়নি। বিএসইসির কাছে দেওয়া ব্যাখ্যায় কোম্পানিটি জানায়, মোট প্রদেয় লভ্যাংশের ৮৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি অর্থ ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়।

তবে কোম্পানির এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি বিএসইসি। কমিশনের বিবেচনায়, তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। আর্থিক সংকটকে এ ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যাওয়ার গ্রহণযোগ্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।

লভ্যাংশ পরিশোধে ব্যর্থতার পাশাপাশি বিতরণ-সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স রিপোর্টও যথাসময়ে জমা দেয়নি আফতাব অটোমোবাইলস। বিধান অনুযায়ী, লভ্যাংশ বিতরণ শেষ হওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। কোম্পানিটি সেই বাধ্যবাধকতাও পরিপালন করেনি।

এ ঘটনায় বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর কোম্পানির ইস্যুয়ার, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কোম্পানি সচিব ও সিএফওকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে ১৭ নভেম্বর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে কোম্পানির পক্ষে কোম্পানি সচিব রাহাত মাহমুদ ও সিনিয়র ডেপুটি ম্যানেজার নাফিস আহমেদ বক্তব্য দেন।

বিএসইসি বলেছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সরাসরি জড়িত। নির্ধারিত সময়ে লভ্যাংশ পরিশোধ না করা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলা ও সুশাসনের পরিপন্থী।

এ কারণে শুধু কোম্পানিকে নয়, লভ্যাংশ পরিশোধ ও আইন পরিপালনের দায়িত্বে থাকা পর্ষদ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করেছে বিএসইসি।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন