ঢাকা, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভালো প্রিমিয়াম পেতে কৃত্রিম আর্থিক হিসাব-বিজিএমইএ সভাপতি

২০২৬ মে ২০ ১৬:৪৫:২৭
ভালো প্রিমিয়াম পেতে কৃত্রিম আর্থিক হিসাব-বিজিএমইএ সভাপতি

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : কৃত্রিম আর্থিক হিসাব ও দুর্বল অ্যাকাউন্টিং ব্যবস্থার কারণে শেয়ারবাজার ও করপোরেট খাতে বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, অনেক কোম্পানি ইচ্ছাকৃতভাবে সাজানো হিসাব নিয়ে বাজারে আসছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হচ্ছেন এবং প্রকৃত সম্পদ ও দায়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য ধরা পড়ছে। এর ফলে ছোট বিনিয়োগকারীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি ভালো কোম্পানিগুলোও শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দি ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) ও দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) এর সহযোগিতায় ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) আয়োজিত ফার সামিটের ‘নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন: আসলেই কী গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। আর বিশেষ অতিথি হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসাইন ভূইয়া।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিজিএমইতে ৭২০০ কোম্পানি নিবন্ধিত হয়েছে। তবে এখন ব্যবসায় টিকে আছে ২৫০০-২৫৫০টি। হারিয়ে যাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে বড় অংশই শেষ হয়েছে সঠিক অ্যাকাউন্টসের অভাবে। কৃত্রিম অ্যাকাউন্টস বানালে আজ বা কাল, ওই কোম্পানি ধংস হবেই। তাই উদ্যোক্তাদেরকে শুরু থেকেই অ্যাকাউন্টিং ভালোভাবে করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের অধিকাংশ উদ্যোক্তাদের শুরুতে ভালো অ্যাকাউন্টিংয়ের গুরুত্বের বিষয়ে ধারনা থাকে না বা ভালো লোক পাই না।

তিনি বলেন, সম্প্রতি শেয়ারবাজারের একটা কোম্পানি অধিগ্রহণের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু অ্যাকাউন্টস নিয়ে দেখলাম সম্পদ ও দায়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য। তখন মধ্যস্থতাকারীর কাছে জানতে চাইলে তার আনঅফিসিয়াল বক্তব্য ছিল, প্রাইভেট লিমিটেড থেকে শেয়ারবাজারে আনার আগে ইচ্ছাকৃতভাবে কৃত্রিমভাবে আর্থিক হিসাব সাজানো হয়েছিল, যেনো ভালো প্রিমিয়াম পাওয়া যায়। এটাই বাংলাদেশে কঠিন বাস্তবতা।

তিনি আরও বলেন, সবাই ব্যাংকিং সিষ্টেমের বাহিরে শেয়ারবাজার থেকে টাকা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন। কিন্তু ছোট ছোট বিনিয়োগকারীরা একটি কোম্পানির অ্যাকাউন্টস দেখে বিনিয়োগ করার কিছুদিন পর দেখে ওই অ্যাকাউন্টস সঠিক ছিল না।

এখন ক্রেতারা (বায়ারস) ভালো অ্যাকাউন্টসের কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করতে চায় বলে জানান বিজিএমইএ’র এই সভাপতি। তিনি বলেন, দূর্বল অ্যাকাউন্টসের কোম্পানির সঙ্গে তারা ব্যবসা করতে চায় না। যারা কৃত্রিম অ্যাকাউন্টস করে সামনের দিকে এগোতে চায়, তারা খুব বেশি দূর এগোতে পারে না।

বাবু খান উদ্যোক্তাদের সঠিক অ্যাকাউন্টস রক্ষণাবেক্ষনের পাশাপাশি পলিসি প্রস্তুতকারীদেরও সঠিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান করেন। এমনভাবে পলিসি প্রস্তুত করতে হবে, যেনো বাস্তবায়নযোগ্য হয় এবং একই আয়ের উপর দুইবার আয়কর প্রদান (ডাবল টেক্সেশন) ও অতিরিক্ত কর দিতে না হয়।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে