ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

মিথ্যা আর্থিক প্রতিবেদন

খান ব্রাদার্সের পরিচালক-কর্মকর্তাদের ১.৪০ কোটি টাকা জরিমানা

২০২৬ জুলাই ০৯ ০৯:০৩:০১
খান ব্রাদার্সের পরিচালক-কর্মকর্তাদের ১.৪০ কোটি টাকা জরিমানা

বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করতে আর্থিক প্রতিবেদনে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন, সম্পদের মূল্য অতিরঞ্জিত দেখানো এবং আন্তর্জাতিক হিসাবমান (আইএএস/আইএফআরএস) লঙ্ঘনের অভিযোগে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদ ও দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, গত ২১ মে অনুষ্ঠিত কমিশন সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোম্পানির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এনামুল কবির খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল কবির খান এবং পরিচালক মো. রুহুল কবির খান, হযরত আলী ও জারিন কবির খানকে ২৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মো. আজিজুল জব্বারকে ১০ লাখ টাকা এবং কোম্পানি সচিব তপন কুমার সরকারকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কমিশন প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, সিএফও এবং কোম্পানি সচিবের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অনিয়ম ছিল মজুদ পণ্যের মূল্য অতিরঞ্জিত দেখানো। আর্থিক বিবরণীতে কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্যের মজুদের মূল্য ৫৯ কোটি ৭৪ লাখ ৬০ হাজার ১৭৭ টাকা দেখানো হলেও নিরীক্ষকের যাচাইয়ে প্রায় ৪০ কোটি ৭০ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮৫ টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে।

এছাড়া কোম্পানির মালিকানাধীন ৪৬১ দশমিক ৫০ ডেসিমেল জমির একই সীমানার মধ্যে ‘খান ব্রাদার্স ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ ও ‘খান ব্রাদার্স মার্বেল অ্যান্ড গ্রানাইট লিমিটেড’ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও ওই সম্পদ ব্যবহারের বিপরীতে কোনো ভাড়া বা লিজ আয় আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো হয়নি।

তদন্তে আরও জানা যায়, প্রায় ৬ কোটি ২২ লাখ টাকার রপ্তানি বিল দীর্ঘ সময় ধরে অনাদায়ী থাকলেও সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে কোনো প্রভিশন বা সঞ্চিতি রাখা হয়নি, যা আন্তর্জাতিক হিসাবমানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ ছাড়া সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে ১০ কোটি ৯ লাখ টাকার আয় দেখালেও ওই আয়ের বিপরীতে কোনো মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কিংবা অগ্রিম আয়কর (এআইটি) পরিশোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। বিএসইসির মতে, এসব অনিয়মের মাধ্যমে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কাছে আর্থিক অবস্থার ভুল চিত্র তুলে ধরেছে, যা সিকিউরিটিজ আইন ও আন্তর্জাতিক হিসাবমানের পরিপন্থী।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন